জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪৫ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া/ফাইল ছবি
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকা জনস্রোতে পরিণত হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকা জনস্রোতে পরিণত হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকাজুড়ে আবেগঘন পরিবেশ বিরাজ করছে।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে মাইকে একাধারে বাজানো হচ্ছে বিভিন্ন সময়ে খালেদা জিয়ার দেওয়া বক্তব্যের অডিও। প্রিয় নেত্রীর এসব বক্তব্য শুনে অনেককেইই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তে দেখা গেছে। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, আবার কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে শুনছেন প্রিয় নেত্রীর কণ্ঠ।
মাইকে প্রচারিত বক্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই, এই দেশ, দেশের মাটি-মানুষ আমার সবকিছু। কাজেই আমি দেশের বাইরে যাবো না। ’
‘আমি যতক্ষণ বেঁচে থাকবো, দেশবাসীকে ছেড়ে যাবো না।’—এই লাইন শুনেই অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
খালেদা জিয়ার প্রচারিত বক্তব্যের মধ্যে আরও রয়েছে, ‘আমরা সকলকে বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই। তবে, কেউ যদি বন্ধু বেশে প্রভু হতে চায়, সেটা আমরা মেনে নেবো না। আমরা স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যুদ্ধ করেছি। এখন যদি দেশকে রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ করা লাগে, আমরা করবো।’
‘দেশ বিক্রি চলবে না হাসিনার। দেশ রক্ষা করতে হবে ইনশাআল্লাহ।’
‘আমি যেমন থাকি, যেখানেই থাকি— কিন্তু দেশবাসীকে ছেড়ে যাবো না। দেশবাসীর কাছে আমার আবেদন, আপনারা আমাকে আলাদা করে দেবেন না।’
এই বক্তব্যগুলো শোনার সময় অনেককে বলতে শোনা যায়, প্রিয় দেশনেত্রী, দেশবাসী আপনাকে আলাদা করে দেয় নাই।
আবার বক্তব্যের একটি অংশ— “কেউ যদি বন্ধু বেশে প্রভু হতে চায়”— শোনার পর এক জায়গায় কয়েকজন মানুষকে জটলা করে আলোচনা করতে দেখা যায়। তারা এ বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে কথা বলছিলেন।
কেউ কেউ বলছিলেন, এই বক্তব্য মূলত ভারতকে ইঙ্গিত করেই দেওয়া হয়েছিল। আবার সেখানে উপস্থিত অন্যরা বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন, বক্তব্যটি ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রশ্নে একটি নীতিগত অবস্থান।
জানাজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাচ্ছে।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ছাড়াও আশপাশের সড়কগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে, অনেকেই জাতীয় সংসদ ভবনের আশপাশে অবস্থান নিচ্ছেন।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসানকে সামনে রেখে, খালেদা জিয়ার কণ্ঠে উচ্চারিত পুরোনো বক্তব্যগুলো যেন এই মুহূর্তে আরও গভীর অর্থ নিয়ে মানুষের হৃদয়ে ফিরে ফিরে বাজছে।