
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তার হলফনামায় জানা গেছে, রাজধানীর উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরে তার স্ত্রীর নামে রয়েছে দুটি ফ্ল্যাট, যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ২০ লাখ টাকা।
আয়
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তার আয়ের প্রধান উৎস আইন পেশা ও বাড়ি ভাড়া। বাড়ি ও ফ্ল্যাট ভাড়া থেকে তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা। আইন পেশা থেকে আয় ২ লাখ ১২ হাজার ৯০০ টাকা এবং ব্যাংক আমানত থেকে আয় দেখানো হয়েছে ১৩ হাজার ৩৬৬ টাকা। তবে তার সন্তানদের কোনো আয়ের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ নেই।
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ
স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে প্রার্থীর তুলনায় তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম বেগমের অর্জনকালীন সম্পদের মূল্য বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। ফজলুর রহমানের কাছে নগদ রয়েছে ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৫২ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫৫১ টাকা। তার স্ত্রীর কাছে নগদ ৭ হাজার ১২৮ টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ১০ লাখ ৪০ হাজার ৪০১ টাকা।
এছাড়া ফজলুর রহমানের নামে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকার মোটরযান এবং ২ লাখ ২০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী।
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় তার নামে একটি নির্মাণাধীন দোতলা ভবন রয়েছে। পৈতৃকসূত্রে তিনি ৫ একর এজমালি কৃষি জমির মালিক। অন্যদিকে তার স্ত্রীর নামে ১২ শতক ও ৫৫ শতকের দুটি অকৃষি জমি রয়েছে। হলফনামায় প্রার্থীর স্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
ঋণ ও মামলা
হলফনামায় জানানো হয়েছে, তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসাব থেকে নেয়া ১০ লাখ টাকার একটি দায়ের মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মানহানি সংক্রান্ত ১২৪(ক) ধারায় একটি মামলা বর্তমানে হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে। ১৯৭০ সালের একটি পুরোনো মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন।
ব্যক্তিগত তথ্য
৭৭ বছর বয়সী এই প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ, এলএলবি। তিনি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার করনসী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে অনিক রহমান একজন এআই বিশেষজ্ঞ এবং ছোট ছেলে অভিক রহমান সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার।